August 26, 2017, 6:37 pm, By Tahsina Tabassum Shrabanti

post image

অবসরে বেড়ানোর জন্য একটি ভালো জায়গা হলো ভারতের লাভপুর। শহরের ধুলো-ধোঁয়া থেকে বেশ খানিকটা নিরাপদ দূরত্বে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের এই জায়গাটা। লাভপুর ছোট্ট একটা গ্রাম।

বাঙালির সঙ্গে এই জায়গার পরিচয় তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মস্থান হিসেবে। অনেকের কাছে লাভপুর জনপ্রিয় দেবী ফুল্লরার মন্দিরের জন্য। ৫১টি শক্তিপীঠের মধ্যে একটি ফুল্লরা মায়ের মন্দির।

এবেলা বলছে, লাভপুরের এই জায়গায় সতীর অধরোষ্ঠ পড়েছিল বলে কথিত আছে। মাঘী পূর্ণিমায় এখানে ধুমধাম করে পুজাও হয়। তবে ভ্রমণপিপাসুরা অবশ্য যে কোনও সময়ই এখানে যেতে পারেন।

এখানে মন্দিরের স্থাপত্যও অনেক পুরনো। মন্দিরের চুড়োয় নাকি একটা সোনার ঘড়াও ছিল। তবে ব্রিটিশদের রাজত্ব শুরু হওয়ার পর সেটা আর দেখা যায়নি। অনেক পরে বোলপুরের কাছে একটি দিঘিতে উদ্ধার হওয়া পুরনো লিপিতে ঘড়ার উল্লেখ পাওয়া যায়।

লাভপুরের তেলেভাজারও বেশ নামডাক রয়েছে। তবে লাভপুরের অন্যতম আকর্ষণ কিন্তু তারাশংকরের বাড়ি ‘ধাত্রীদেবতা’। বাড়ির একটা অংশ এখন সংগ্রহশালা। সাহিত্যিকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, চিঠিপত্র, শংসাপত্র, বংশলতিকা সবই সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। দুর্গাপুজার সময় বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে পুজো হয় এখনও। বাড়িতেই মন্দির। রয়েছে কাছারিবাড়ি এবং গ্রন্থাগারও।

এখান থেকে পায়ে হাঁটা দূরত্বে রয়েছে দুবসো গোপালপুর গ্রাম। ঋষি দুর্বাসার আশ্রম রয়েছে সেই গ্রামে। ধর্মরাজের মন্দির রয়েছে বেলে গ্রামে। বিখ্যাত হাঁসুলিবাঁকও রয়েছে হাঁটা দূরত্বেই। এছাড়াও গাড়ি থাকলে পাচুন্দি, অট্টহাস, জপেশ্বর, কীর্ণাহার, গোবিন্দ সাগর, ঠাকুরবাড়িতে ঘুরে আসতে পারেন যে কেউ।

আরেকটি জায়গা আছে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের নলহাটি। হিন্দু পুরাণ অনুসারে, দেবী সতীর গলার নলি এখানে পড়েছিল। সেখান থেকেই এই শহরের নাম নলহাটি। পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কাছাকাছি এই শহর।

নলাটেশ্বরী মন্দির এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা। ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম এই নলাটেশ্বরী মন্দির। বীরভূমের ব্যস্ত শহর নলহাটি। ছোটনাগপুর মালভূমির অংশ এটি। বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার মতোই এখানকার মাটির রং।

নলহাটির পর্যটনের ব্যাপারে সরকারিভাবে অনেকটাই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এখন। শহুরে দূষণ একটু থাকলেও মোটামুটি স্বাস্থ্যকরই বলা যায় এই অঞ্চলকে। শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে বাউটিয়ার কাছে রয়েছে ব্রাহ্মণী নদী। কাছাকাছি রয়েছে চন্দ্রমণি পাহাড়।

জঙ্গলের শখ থাকলে ব্রাহ্মণীর ব-দ্বীপে বৈধারা শালবন দেখতে যেতে পারেন। নলহাটির যে অংশে নলাটেশ্বরী রয়েছে, তার কাছাকাছিই রয়েছে মাজার শরিফ। সেখানে নাকি নিমবন রয়েছে প্রকাণ্ড। বলা হয়, সেই নিমপাতা মুখে দিলেই নাকি মিষ্টি লাগে! ব্রাহ্মণী নদীর তীরে জগধারী গ্রামে রয়েছে মহানির্বাণ মঠ।

This post has been read 210 times.


Please login for submit a comment!


Recent post of

Recent comments on

Recent comments of

  • commented on 's post. Title: JOYBANGABANDHU; comment:


  • FOLLOW US ON....

    Copyrights © 2018, All rights reserved | Template by SHRABANTI SOFT